সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, বাংলা ২, পৌষ ১৪২৬

সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা  নির্মানে খুশি শিক্ষক শিক্ষার্থীরা

সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা  নির্মানে খুশি শিক্ষক শিক্ষার্থীরা
  • -

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুপেয় পানির সংকট আর পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগের যেন শেষ নাই। কখন দৌড়ে বাড়ি গিয়ে বাথরুমে যেতে হয় কখনো পানি পান করতে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। এসব ভোগান্তির যেন শেষ নাই। অনেকে স্কুল ছেড়ে যায় আশপাশের জঙ্গলে। এ সব কথা বলছিল পীরগঞ্জ উপজেলার ঘুঘুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র তারেক,  তৃতীয় শ্রেণির মোহনা ও দ্বিতীয় শ্রেণির লুবনা আক্তার জয়া। এমন কথাও বলছিল ৪র্থ শ্রেণির তানিয়াও। তারা জানায়, তাদের বিদ্যালয়ের দ্বিতল বিশিষ্ট ওয়াশব্লক নির্মান কাজ শেষ হলে এসব দুর্ভোগের লাঘব হবে। তখন আর বাড়িতে বা আশপাশের জঙ্গলে যেতে হবেনা। স্বাস্থ্য সম্মত পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার ওয়াশ ব্লক নির্মান হওয়ায় খুশি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওই বিদ্যালয়ের মতো পাশের কিং দলপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আনন্দিত। 
ওই বিদ্যালয় দুটির ওয়াশব্লক প্রকল্পের ছাদ ঢালাই শেষে শিক্ষার্থীরা এ সব অভিব্যক্তি প্রকাশ করে। 
ঠাকুরগাঁও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মইন উদ্দিন ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ঘুঘুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিং দলপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকের এক তলার ছাদ নির্মান কাজ শুরু হয়েছে। এই দুটি বিদ্যালয়ের কাজ শেষ করতে আরো দুই মাস সময় লাগবে। 
ঠাকুরগাঁও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মইন উদ্দিন আরো বলেন, এই কাজ শেষ হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষর্থীরা সুপিয় পানি ও মানসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার সুবিধা ভোগ করতে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বাস্থ্যও ঠিক থাকবে। ছড়াবেনা রোগ বালাইও। 
ঘুঘুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরমান আলী বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজে আমরা সন্তুষ্ট। তারা প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী মান সম্মত কাজ করছে। এ ধারা অব্যহত থাকলে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুবিধা পাবে। তা হবে টেকশই ও দীর্ঘস্থায়ী। 
এমনই কথা বললেন কিং দলপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ দাস। তিনি বলেন, সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ প্রসংসার দাবিদার। যেহেতু সরকার শিক্ষক ও শিশু শিক্ষার্থীদের মান সম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থায় অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। তাই স্কুলের পক্ষ থেকেও আমরা সজাগ যেন ঠিকাদারী প্রতিষ্টান মান সম্মত কাজ উপহার দেয়। তবে এখন পর্যন্ত চলমান কাছে প্রশংসা করেন তিনি। 
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, ইতো মধ্যে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জসাইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ওয়াশ ব্লকের কাজ শেষ হয়েছে। আর এক মাসের মধ্যেই এই দুটি বিদ্যালয়ের কাজ শেষ হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার সুফল পাবে। আর খুব শিগগিরই দলপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লাক নির্মান কাজ শুরু হবে। 
বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রতিটি বিদ্যালয়ে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা করে মোট ৫টি বিদ্যালয়ে প্রায় ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মান করা হবে। 
নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফা বেগম বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মানে শুরুর দিকে কিছু ত্রুটি ছিল। আপত্তি জানালে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা  পরে তা ঠিক করে। এখনো ১৫ ভাগ ভাগ অবশিষ্ট আছে। এ মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানান তিনি। তিনি পীরগঞ্জ উপজেলার ঘুঘুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিং দলপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মান কাজ পরিদর্শন করে তিনিও কাজের সন্তোষ প্রকাশ করেন।  
প্রতিটি বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লকে থাকবে ছাত্রছাত্রীদের জন্য ২টি হাত ধোয়ার বেসিন, দুইটি বাথরুম, ২টি কোমট, আলাদা ৪টি প্রসাবখানা। এছাড়াও বিদ্যুত চালিত পাম্প ও পানির টেংকি। ওই ৫টি বিদ্যালয়ের নিচতলা ও উপর তলার সাথে কানেক্টিং করে আদালা করে ওয়াশব্লক নির্মান করা হচ্ছে।


এ জাতীয় আরো খবর